ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করার সময় গাছ পালা উপড়ে পড়া ছাড়াও অন্তত ২০ হাজার বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৬টি নৌকার অন্তত ৭১ মাঝি-মাল্লা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মোরা এখন স্থল নিম্নচাপ হিসেবে ভারতের মনিপুর রাজ্যে অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় মোরা মঙ্গলবার ভোরে ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের উপকূলে আঘাত হানে। এ সময় সাগর উত্তাল হয়ে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বৃষ্টি হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন এলাকা। ঝড়ে কক্সবাজার জেলার অন্তত ২০ হাজার কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। প্রবল বাতাসে উপড়ে গেছে বহু গাছপালা ও বিদ্যুৎতের খুঁটি। গাছ চাপায় চকোরিয়ায় দুই জনের মৃত্যু হয়। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর হৃদরোগে মারা যান আরো একজন। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সাগরে ডুবে একজন জেলের মৃত্যু হয়েছে।
পরে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙামাটি শহরে গাছ চাপা পড়ে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়। আর ভোলার মনপুরায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে এক বছরের একটি শিশু মারা যায়।
ঘূর্ণিঝড় মোরা'র বিপদ কেটে যাওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৩ টা থেকে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে শুরু হয়েছে লঞ্চ চলাচলও।
ঘূর্ণিঝড়টি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এখন ভারতের মনিপুর রাজ্যে অবস্থান করছে।