রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আড়াইশ'রও বেশি পরিবার এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিভিন্ন আশ্রমসহ আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় জুটলেও খাবার-দাবারে যেন কষ্টের সীমা নেই। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও নারীরা।
সরকারের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী নিচ্ছেন না অনেকেই। বাড়িঘরে আগুন দেয়া দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবি তাদের। নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চাইছেন পাহাড়ি জনপদের এ মানুষগুলো।
ফ্যাল ফ্যাল করে এভাবেই তাকিয়ে থাকেন কালাসোনা চাকমা। জীবনের একটা মূল্যবান সময় পরিশ্রম করে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন নিজ আবাসভূমি। সব পুড়িয় দিয়েছে দুর্ববৃত্তরা। স্বপ্নগুলোও যেন ছাই হয়ে গেছে।
যুবলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনার পর কিছুটা আছ করতে পেরেছিলেন কোন অঘটন ঘটতে পারে। কিন্ত স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দৃঢ় আশ্বাসে সাহসও পেয়েছিলে কালাসোনা চাকমা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। স্বামী-সন্তান নিয়ে প্রাণে বেচেঁ গেলেও বাচাঁতে পারেননি ৭০ বছরের মাকে।
এতো গেল এক কালাসোনা চাকমার হাহাকার। লংগদু উপজেলার তিনটিলা পাড়া, বাত্যাপাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ মানিকজুড় ও বড়াদম এলাকার পড়তে পড়তে বিছিয়ে রয়েছে এ রকম শত শত হাহাকার - দীর্ঘশ্বাসের বহুচিন্হ। ভেতরে ভেতরে জ্বলছে ছাই চাপা আগুন।
নিরাপত্তাবাহিনীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রকম বর্বর হামলা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিঃস্ব এ মানুষগুলো।
আশির দশকে ঘটে যাওয়া এরকম বর্বর হামলার ঘটনার সাক্ষীরাও বিক্ষুদ্ধ। প্রশ্ন একটাই কবে শেষ হবে এ নির্যাতন।
তিনটিলার বন বিহারে আশ্রয় নেয়া ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী চাকমার বইগুলো পুড়ে যাওয়ায় তার স্বপ্নগুলোও যেন পুড়ে গেছে।
আত্নীয় স্বজনের বাড়ীসহ অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে এই তিনটিলার বনবিহারে। কোনরকমে দু'বেলা দুমুঠো খেয়ে দিন পার করছেন ঘরবাড়ী পুড়া মানুষগুলো। সবার একটাই চাওয়া স্থায়ী নিরাপত্তা।