নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার দিনভর বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামবাসী। নগরীর বেশিরভাগ এলাকাই তলিয়ে রয়েছে হাঁটু পানিতে। আর এ অবস্থায় ভোগান্তির শেষ নেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামবাসীর।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কোথাও হাটু পানি, কোথাও বা কোমর পানি। আবার কোনো কোনো এলাকায় বসতবাড়ির একতলায় পানি জমে গেছে। বন্যা নয়, টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
হাইওয়ে পুলিশ রাউজান থানার ওসি আহসান হাবিব বলেন, রাউজান দাইয়ার ঘাটা থেকে চড়া বটতল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে চট্টগ্রামের সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। সোমবার সারাদিনের বৃষ্টির পর রাতে প্রবল বর্ষণ হয়।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সোমবার বেলা ১২টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে।
এদিকে, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
ফায়ার সর্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড় ধসের ঘটনায় যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিটের গাড়ি বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছে।
এদিকে, কাপ্তাই ইউনিটের সদস্যরা বড় দমদমা এলাকায় আটকে পড়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা পূর্ণচন্দ্র।
তিনি বলেন, বড়দমাদমা এলাকায় পাহাড়ি ধস ও ঢলে তারা কোনো দিকে এগুতে না পারায় হাটহাজরি ফায়ার স্টেশনের একটি দল তাদের উদ্ধারে গেছেন।
রোববার রাতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে রুপান্তরিত হলে সোমবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়।