প্রবল বর্ষণে গত দুদিনে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪৩ জন।
প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে বুধবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সকালে রাঙামাটিতে আরো ৩জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে, মঙ্গলবার আলোর স্বল্পতার কারণে সন্ধ্যার পর থেকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানী হয়েছে রাঙামাটিতে ১০১, চট্টগ্রামে ৩০ ও বান্দরবানের ৬ জন মারা গেছেনন। এখোনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য নগদ টাকা ও খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে চলে টানা বর্ষণ। পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমবার পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়লে চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে তিন জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ধস নামে। এতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে শতাধিক মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। আহত হন অনেকে, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও অনেকেই নিখোঁজ। পাহাড় ধসের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
রাঙামাটি সদরের মানিকছড়ি, শিমূলতলি, ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মানিকছড়িতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও চার সেনা সদস্য। মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাঙামাটি সদরের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া কাউখালী, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও ঝুড়াছড়িতে পাহাড় ধসে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, রাউজান ও বাঁশখালীতেও পাহাড় ধসে ঘটে প্রাণহানীর ঘটনা।
এছাড়া বান্দরবানের কালাঘাটা জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।