পরিবাশগতভাবে অনেক আগে থেকেই পাহাড়ি শহরের মধ্যে খাগড়াছড়ি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কারণে এ শহরে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে পাহাড় কাটা অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা, আইন প্রয়োগে শৈথিল্য ও দারিদ্র্যের অজুহাতে অব্যাহত পাহাড় কাটার ফলে সদরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সবুজবাগ, কৈবল্যপীঠ, তেঁতুলিয়া ও হাদোকপাড়ার সহস্রাধিক পরিবার এখন পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত ১৪ ও ১৫ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় খাগড়াছড়িতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
শিগগির ব্যবস্থা নেয়া না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খাগড়াছড়ি শহরেও ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।
খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে প্রায় তিন দশক আগে। কিন্তু এখনো নেই কোনো মাস্টার প্ল্যান ফলে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে বসতি।
পাহাড় কাটার ফলে বর্ষাকালে সদরের অধিকাংশ সড়ক, নালা-নর্দমা কাঁদামাটিতে ভরে যায়। আর ধুয়ে আসা সে মাটির ব্যবসা করার জন্য কেউ কেউ পাহাড়কাটাকেই উৎসাহিত করছেন বেআইনিভাবে।
উন্নয়নের নামে পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পাহাড় কেটে চলেছে সমানতালে— অথচ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামেই পাহাড় কাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সম্পাদক আবু দাউদ
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কলাবাগান, ন্যান্সীবাজার, শালবন, হরিনাথপাড়া গ্যাপ এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাসিন্দাদের শুক্রবার আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষকালে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে খাগড়াছড়ি শহরে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়। ঘটে ছোটবড়ো দুর্ঘটনাও।
গত ১৩ ও ১৪ জুন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম বর্মাছড়ি ও হলুদ্দাপাড়া বড়ইতলি এলাকায় মাটিচাপা পড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছেন। তবে যে কোনো সময় খাগড়াছড়িতেও ঘটতে পারে রাঙামাটি বা বান্দরবানের মতো নির্মম দুর্ঘটনা।