মৌলভীবাজার ও খাগড়াছড়িতে নতুন করে পাহাড় ধসে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে একজন ও রামগড়ে দুই জন রয়েছেন। খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারসহ পাহাড় ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জন। এদিকে, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো শুরু হয়নি।
গত ১২ জুন রাত থেকে ১৪ জুন নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভূমিধসে রাঙমাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজারে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নতুন করে রোববার ভোরে আবার খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে এ দুই জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জন।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার নাকাপা বুদুমছড়া এলাকায় ভোরের দিকে পাহাড় ধসে পাশের একটি বাড়িকে চাপা দেয়। এতে বাড়িতে থাকা দুই সহদরের মৃত্যু হয়।
এদিকে, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় জুতিন্দ্রকারবারি পাড়ায় পাহাড় ধসে আরো একজনের নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন।
গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসের ঘটনায় সদরে একটি ও মানিকছড়িতে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে সদরের আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া ৩০টি পরিবার বাড়ি ফিরে গেছে আর মানিকছড়ির দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩টি পরিবার এখনো অবস্থান করছে।
এদিকে, মৌলভীবাজারে প্রবল বর্ষনে বড়লেখা উপজেলায় পাহাড় ধসে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোরে উপজেলার বিএসসি কেরছরিগুল এলাকার ডিমাই গ্রামে ঘর ধসে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন মা ও মেয়ে। মৃতদেহ ২টি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাঙামাটিতে রোববারও সকাল থেকে মুশুল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে আতঙ্কে রয়েছেন পাহাড়ের মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের মাইকিং করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার নিউটন দাস বলেন, সকালে জেলার ভেদভেদী টিঅ্যান্ডটি, মুসলিমপাড়া বেতারকেন্দ্র এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধসের আশঙ্কায় মাইকিং করা হয়েছে।
এদিকে, ভয়াবহ পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।