কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদ জমাতের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষ হয়েছে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস।
এদিকে, রোববার সকালে পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মোতায়েন করা হয়েছে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), জেলা পুলিশসহ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানান তিনি।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ জামাতের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেন, মুসল্লিদের বাড়তি নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে সব রকমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
১৯০তম জামাতে এ বছর ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলে জানান তিনি।
এতোদিন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হলেও এবার এখানে হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত। এদিকে, উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মাঠ তৈরি করা হয়েছে দিনাজপুরে। প্রায় ৫ লাখ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করার লক্ষ্য নিয়ে এ ঈদগাহের মিনার নির্মাণ কাজও প্রায় শেষের দিকের দিকে। এবারই প্রথম এ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি শাফায়েত নাজমুলের দেয়া তথ্য:
কিশোরগঞ্জের প্রায় আড়াইশো বছরের পুরোনো শোলাকিয়া মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ১৯০তম ঈদের জামাত। ঈদকে সামনে রেখে মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব ও দেয়ালে চুনকাম করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ ঈদ জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন। কাজের অগ্রগতি যাচাইয়ে মাঠ পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর মধ্যেই ঈদগাহর আশপাশ, রাস্তা-ঘাট, অজুখানাসহ সমস্ত সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ।
এদিকে, গতবছর ৭ জুলাই ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ শুরুর আগ মুহূর্তে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে পুলিশের তল্লাশির সময় জঙ্গি হামলা হয়। এতে দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ তিন জন নিহত হন। আহত হন ১২ পুলিশ সদস্য।
জনশ্রুতি রয়েছে, কোন এক ঈদের জামাতে এ মাঠে সোয়া লাখ মুসুল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এর নাম হয় "সোয়া লাখিয়া"। বর্তমানে যা শোলাকিয়া নামেই পরিচিত। ১৭৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য ৭ একর জমি ওয়াকফ করেন ঈশা খাঁর বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান।