অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে তৃতীয় দফা বন্যা শুরু হয়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে তিন উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের দেড়শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে চারটি উপজেলাল নদী তীরবর্তী ১৩টি গ্রাম।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাকালুকি হাওরের পানি বাড়তে থাকায় বসতভিটা , রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলা চত্বর। হাওর পাড়ে তিন উপজেলার ১৫০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন এখানকার প্রায় দুই লাখ মানুষ।
দুর্গতদের জন্য সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ত্রান নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাতীবান্ধাসহ চার উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবার। নদী তীরবর্তী মানুষদের এর মধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।