ভারি বর্ষণে দেশজুড়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে বাড়ছে পানি। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তিস্তার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারায়ও পানি বাড়তে থাকায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার, সিলেট ও লালমনিরহাটে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাতীবান্ধাসহ চার উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবার। নদী তীরবর্তী মানুষদের এরমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুরনা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
দুর্গত এলাকাগুলোতে রয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণের সংকট। মৌলভীবাজারে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সিলেটে বন্যার কারণে ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাকালুকি হাওরের পানি বাড়তে থাকায় বসতভিটা, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলা চত্বর। হাওর পাড়ে তিন উপজেলার ১৫০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এখানকার প্রায় তিন লাখ মানুষ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বন্যার পানি ওঠার কারণে ১৪২টি প্রাইমারি স্কুল ও ৪১টি মাধ্যমিক স্কুলে পাঠদান কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
দুর্গতদের জন্য সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ত্রাণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।
পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানী নগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার ১৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌকা দিয়েও মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য ১২৮ মেট্রিকটন চাল, নগদ প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ছয়টি উপজেলায় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।