টানা বৃষ্টিতে তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আবার পাহাড় ধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, অবিরাম বর্ষণে মৌলভীবাজার, সিলেট ও লালমনিরহাটে নতুন করে বেশ কিছু জায়গায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।
আর ভারি বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সেইসঙ্গে সিলেটের কুশিয়ারা ও সুরমাসহ সবগুলো নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেটের বন্যাকবলিত জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগরসহ ৬টি উপজেলার সঙ্গে নতুন করে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়েছে আউশ আমন ধানের বীজতলা। বন্যার কারণে জেলার ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবে কুশিয়ারা নদীর পানি আমলসিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। সুরমার পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। জেলার নয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
মৌলভীবাজারে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সদর ও রাজনগরসহ ৫টি ইউনিয়ন। তিন উপজেলায় পানিবন্দী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে।
দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
লালমনিরহাটেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে পাহাড় ধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে।