সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
কোথাও কোথাও পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। কয়েকটি এলাকার বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। প্লাবিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। বেড়েছে পানিবাহিত রোগ ও ভাইরাস জ্বর। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মৌলভীবাজার, সিলেট, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ। কয়েকটি এলাকায় পানি কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি।
নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত না হওয়ায় অপরিবর্তিত রয়েছে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি। কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখার হাওর এলাকায় এখনো পানিবন্দি শতাধিক গ্রাম। এসব এলাকার দুই লাখেরও বেশি মানুষ গত দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি।
জেলার ২৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।
রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখায় ছোট যানবাহন চলাচল করছে না।
এদিকে, পানিবন্দি অনেক মানুষই এখনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
মঙ্গলবার রাত থেকে সিলেটের সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুরমা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এছাড়া দুর্গত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম গঠন করে প্লাবিত এলাকায় পাঠানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে জানিয়েছেন দুর্গতরা।
বেশিরভাগ এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে দুর্গতদের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলার ১০ টি আশ্রয়কেন্দ্রে একশরও বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্ধ রয়েছে ২০৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।