কক্সবাজার, সিলেট ও মৌলভীবাজারের পর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের শতাধিক গ্রাম। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের নদের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বেড়ে জেলার চিলমারী ও সদর উপজেলায় গ্রামগুলো তলিয়ে যায়। এদিকে পানি না কমায় কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটের পাশাপাশি পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সিলেট ও মৌলভীবাজারে এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদ-নদীর পানি।
এদিকে, টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে নদী তীরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চলগুলোতে।
গত ২৪ ঘন্টায় তলিয়ে গেছে চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট, অষ্টমীরচর ও চিলমারী ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একশরও বেশি গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ।
পানি কমেনি মৌলভীবাজারের বন্যাদুর্গত এলাকায়। বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার পানিবন্দি ৩ লাখেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব রয়েছে, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। এতে শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৭ টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
আর পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে দুর্গতদের। সরকারি ত্রাণ হিসেবে চালের পরিবর্তে গম বিতরণ করায় অসন্তোষ বিরাজ করছে তাদের মাঝে।
এদিকে, পানি কমেনি সিলেটেও। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ এলাকার পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখঅলী, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের নিম্নাঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে। তলিয়ে আছে চিংড়ির ঘের, রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামো।
বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
গত কয়েকদিনে জেলায় পাহাড়ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।