দেশে সাড়া জাগানো ‘হরি’ ধানের উদ্ভাবক ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
বুধবার মধ্যরাতে জেলার আসাননগর গ্রামে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৫ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন।
সূত্র বাসস।
গত ছয় মাস ধরে তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন, মিডিয়াকর্মী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে ছুটে যান। দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলীয়ারপুর শ্বশানে তার অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
হরিপদ কাপালী তার ইরি ধান ক্ষেতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ধান গাছ দেখে তিনি সেটাকে আলাদা করে রাখেন। এরপর বীজ সংগ্রহ করে তিনি নিজের ক্ষেতেই ১৯৯২ সালে আবাদ করে সুফল পান।
ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের দিকে ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে নাম পরিচয়বিহীন এক জাতের ধানের ব্যাপক আবাদ ছড়িয়ে পড়ে। পোকামাকড়, ক্ষরা ও অতিবৃষ্টি সহিষ্ণু এই জাতের ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দেখে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশেষ ধরনের এই জাতের ধান চাষের উপর ছাড়পত্র প্রদান করে।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে হরপদ কাপালীর নামের সঙ্গে মিল রেখে এই ধানের নামকরণ করা হয় 'হরিধান'। এটি বিশেষ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান। যা গোটা দেশে সাড়া জাগায়। আর এজন্য কৃষক হরিপদ কাপালী পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।