শেষ সম্বল কেড়ে নেয়ায় গায়ে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক শামীম। বার বার অনুরোধের পরও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তার রিকশার ব্যাটারি কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে এ কাজ করেন বলে জানান ওই অটোচালক।
ব্যাটারির বিনিময়ে ওই পুলিশ সদস্য তার কাছে টাকা চেয়েছিল বলেও অভিযোগও করেন।
সাভারের ট্র্যাফিক বিভাগের টিআইয়ের নেতৃত্বে রিকশা চালকদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওই চালকের। পুলিশ বলছে তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় রিকশা চালান শামীম সিকদার। জীবিকা নির্বাহ করতে কিস্তি দিয়ে তিনি একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছিলেন। ৩০ জুন দুপুরে মহাসড়কে অটোরিকশা চালানোর অপরাধে পুলিশ তার রিকশা থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। অনেক আকুতি-মিনতি করেও ব্যাটারি ছাড়াতে না পেরে হতাশ হয়ে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন শামীম।
ব্যাটারি ফেরত চাওয়ায় পুলিশ তাকে মারধরও করে বলে অভিযোগ তিনি জানান, এজন্য দুই হাজার টাকা দাবি করা হয় তার কাছ থেকে।
শামীমের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাভারে ওই সড়কে সেসময় দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট আমিনুর রহমান।
তিনি জানান, মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা জব্দ করতেই তারা কাজ করছিলেন তখন এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরই ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া জানান, সাভার ট্র্যাফিকের দ্বায়িতে থাকা টিআই আবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।