দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে— মধ্যাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যা। প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের শতাধিক গ্রাম। যমুনার পানি বাড়ায় জামালপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজারে জলবন্দি দুর্গতদের দুর্ভোগ বাড়ছেই। তবে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে, দুর্গত এলাকায় অপ্রতুল সরকারি ত্রাণ নিয়ে রয়েছে বন্যার্তদের অসন্তোষ।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরইমধ্যে নদী তীরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৬ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তলিয়ে গেছে চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট, অষ্টমীরচর ও চিলমারী ইউনিয়ন, উলিপুর এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একশরও বেশি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ।
যমুনা নদীর পানি বেড়ে জামালপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। গেল ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি ৩১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ইসলামপুর উপজেলা, পৌর এলাকা, পশ্চিমাঞ্চলসহ নোয়ারপাড়া, চিনাডুলী, বেলগাছা, পাথর্শী ও কুলকান্দি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানির তোড়ে বলিয়াদহ ব্রিজের একাংশ ভেঙে গেছে। প্রায় ৫০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, নেত্রকোনায় কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার পানিবন্দি তিন লাখেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পানিবন্দী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
এদিকে, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে দুর্গতদের। সরকারি ত্রাণ হিসেবে চালের পরিবর্তে গম বিতরণ করায় অসন্তোষ বিরাজ করছে তাদের মাঝে।
পানি কমেনি সিলেটেও। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ এলাকার পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
এদিকে, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের নিম্নাঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকার পানি সরে যাচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি কমতে শুরু করেছে তলিয়ে যাওয়া চিংড়ির ঘের, রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামোয়। জেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।