জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে—যমুনার উলিয়া হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ওআরসি প্রকল্পের পাইলিংবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।
এদিকে, মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও সিলেট ও কক্সবাজারে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি।
দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অপ্রতুল ত্রাণের পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জামালপুরে বাড়ছে যমুনা নদীর পানি।
বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে এ নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে এম আর সি প্রকল্পের পাইলিং বাঁধ। পানিতে তলিয়ে গেছে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
প্লাবিত হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে পড়ে মারা গেছে এক শিশু।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ।
কক্সবাজারের রামু, চকোরিয়াসহ বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে বেড়েছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ।
সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে নিচু এলাকাগুলো এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। এক লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বন্যায় সিলেটের পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১টি উপজেলার ২২৬ কিলোমিটার রাস্তা।
এদিকে, মৌলভীবাজরে নতুন কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি। এখনো বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছে কুশিয়ারা নদীর পানি। জেলার ৩৩টি ইউনিয়নের চারশরও বেশি গ্রামের তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জ্বর, ডায়েরিয়ার প্রকোপ থাকলেও চিকিৎসকের দেখা মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণও পাচ্ছেন না তারা। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন হাওর এলাকার মানুষ।