কুড়িগ্রামে ও সিলেটের বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি অপরিবর্তিত থাকায় রোববার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে দিন যাপন করছে চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর ও সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের নদ-নদী তীরবর্তী দেড় শতাধিক গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
এ অবস্থায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষজন। দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকটও। এসব এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ধরলা, তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি।
এদিকে, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে পানি কমার সাথে সাথে বাড়ছে বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ। খাবার ও কাজ না থাকায় অসহায় অবস্থায় রয়েছে আট উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় সিলেটের আট উপজেলার এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৫ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগর, কোম্পানীগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের ৪৬৬ গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। তাছাড়া চার হাজার ৪৯১টি ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান।
বেশি বন্যা কবলিত তিন উপজেলার ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬২৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানি কমায় এরইমধ্যে অনেকে বাড়ি চলে গেছেন।
দুর্গতদের সাহায্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি কমেছে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার। তবে এখনও বিপদসীমার সামান্য উপরে রয়েছে নদীর পানি।
সরকারিভাবে জেলার প্রায় এক লাখ ৩৯ হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নগদ ১২ লাখ টাকা ও ৮০০ মেট্রিক টন চাল।
বন্যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবায় কাজ করছে ৭৮টি মেডিকেল টিম।