তিস্তায় পানি আজও- মঙ্গলবার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছেল।
সকাল ৬টা থেকে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে।
উজানের ঢল আর ভারি বর্ষণের কারণে তিস্তা নদী বেষ্টিত দশ ইউনিয়ন এবং ২০টি চরে দেখা দিয়েছে বন্যা। খাদ্যাভাব এবং নানা সংকটে পড়েছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ তিস্তার পানি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নে সার্বিক মনিটরিং করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি জলকপাট খুলে দেয়ায় আকষ্মিকভাবে পানি বেড়েছে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারী পয়েন্টে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড আরো জানিয়েছে, সোমবার বিপদসীমার ৩২সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের পর থেকে পানি কমতে থাকে। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন এভাবে থাকতে পারে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি, ঝুনাগাছ চাপানি, খালিশা চাপানি, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে টেপাখড়িবাড়ি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের মানুষরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দশ ইউনিয়নে জনসংখ্যা ৮লাখ ৫৪হাজার ৬৫৬জন। আর বন্যায় আক্রান্ত ১লাখ ৫২হাজার ৭০৬টি পরিবার।
এদিকে, ৪০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম জানান, মূলত উজানের ঢলের কারণে পানি বেড়েছে তিস্তায়। তাছাড়া ভারি বৃষ্টিপাতও রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নজর রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, অ্যাপ্রোচ বাঁধ, গাইড বাঁধ, স্পার রক্ষায়।
এছাড়া তিস্তা ছাড়াও পানি বেড়েছে জেলার উপর দিয়ে বহমান বুড়ি তিস্তা, চারালকাটা, বুড়িখোড়া, যমুনেশ্বরী, খড়খড়িয়া, দেওনাই, খেড়ুয়া, শালকি, নাউতারা, কুমলাই, ধুম, ধাইজান, চিকলি নদীতে।