বৃষ্টিতে নদনদীর পানি বাড়ায় দেশের উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধায় প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। টাঙ্গাইল, জামালপুরেও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় বেশিরভাগ নদীর পানিই বেড়েছে তবে সিলেট ও লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
গত কয়েক দিনে সারাদেশে ভারি বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা।
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিন উপজেলার ৩০টিরও বেশি গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। সেই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। ৬টি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দুর্গত এলাকায় ৭৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিস্তা নদীতে গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় রংপুরেও তিস্তার পানি এখন বিপদসীমার ওপরে। গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ডান তীরের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তীব্র স্রোতে আঘাত হানছে তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। ভাঙনে দিশেহারা মানুষ প্রাণপণ চেষ্টা করছে সহায় সম্বল রক্ষায়। তারপরও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কামারজানি বন্দর এলাকায় গো-ঘাট এলাকার ২০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে, সিলেট ও লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তীত রয়েছে। বন্যা কবলিত এসব এলাকায় বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ ও পানিবাহিত রোগ ব্যাধিও। ত্রাণের আশায় দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় এসব এলাকার মানুষ।