নদ-নদীর পানি বেড়ে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির বৃহস্পতিবার আরো অবনতি হয়েছে।
প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল।
কয়েকটি জায়গায় হুমকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাইবান্ধায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার সাতটি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব ইউনিয়নের লাখের বেশি মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাব।
এদিকে, বন্যায় আমন-আউশ ধান ও সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি উঠে পড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলার ২২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, ব্রহ্মপুত্রের প্রবল স্রোতে চিলমারীর কাচকোলে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ৫০ মিটার বাঁধ ও রৌমারীর যাদুর চরে কত্তিমারী বাজার রক্ষা বাঁধ ভেঙে নতুন করে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সাতটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। এদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে বুধবার দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বন্যার কারণে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলো এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। ডিমলা ও জলঢাকার ১০টি চরের তিন হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলী জমি। বানভাসীদের জন্য সরকারিভাবে ১৭৫ মেট্রিকটন চাল ও নগদ সাড়ে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতির আবনতি হয়েছে গাইবান্ধাতেও। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চার উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। দেখা দিয়েছে ভাঙন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এছাড়া, সিলেটে সুরমা নদীর পানি কমে কানাইঘাটে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানি কমতে শুরু করায় সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।