বানভাসী মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে—বিভিন্ন জায়গায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম বলে দুর্গতরা জানিয়েছেন।
জামালপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের সংকটের পাশাপশি দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানারোগ।
চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বানভাসী লাখো মানুষ। এদিকে, সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ধরলার পানি হ্রাস পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরে বানভাসী মানুষ পানিবন্দি থাকায় তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম দুর্গতরা জানিয়েছেন।
জামালপুরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন জেলা সদর, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪৪টি ইউনিয়নে দেড় লাখেরও বেশী মানুষ। পানিতে ভেসে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ৩০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও শেওলা পয়েন্টে ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। হাওরে পানি বেড়েছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার প্লাবিত এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে নদী পাড়ের রাস্তা-ঘাটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বসত ভিটা রক্ষায় নিজেরাই মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।
গাইবান্ধায় ৪ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।
এদিকে, সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। যমুনার পানি এখন ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।