সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার ২ শতাধিক চরের মানুষ ১২ দিন ধরে পানিবন্দি। জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের সংকটের পাশাপশি দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।
চলমান বন্যায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন দেশের ১৩টি জেলার মানুষ। দু-একটি জায়গায় পানি নেমে যেতে শুরু করলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না বানবাসি মানুষের।
সিলেট:
সিলেটে বৃদ্ধি পেয়েছে বন্যার পানি। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন, জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদীর পানি ১৩১ সেন্টিমিটার, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি ৭১ সেন্টিমিটার ও বিয়ানীবাজারের শেওলায় কুশিয়ারা নদীর পানি ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার ২ শতাধিক চর ও দ্বীপচরের বানভাসীরা ১২ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৪শ মেট্রিকটন চাল ও ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৪ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হলেও অনেকের ভাগ্যে জুটছে না।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধীর গতিতে কমছে অন্যান্য নদ-নদীর পানি।
জামালপুর:
পানি কমায় জামালপুরের বন্যাপরিস্থিতি ভালো হয়েছে। তবে, এখনো পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন জেলা সদর, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪৪টি ইউনিয়নে দেড় লাখেরও বেশী মানুষ। পানিতে ভেসে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ৩০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কুশিয়ার নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়েছে হাওরেও।
সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। যমুনার পানি এখন বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, সিরাজগঞ্জের বাহুকায় বাঁধের ভাঙন অংশ সংস্কার কাজ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সেনাবাহিনী ১১ আর ই ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ সংস্কার কাজ শেষ করেছে।
বগুড়া:
উজানের ঢলে গত কয়েকদিনে বগুড়ার সারিয়াকান্দির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাড়িঘরের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, বন্যায় বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি।