বন্যা কবলিত এলাকায় অপ্রতুল ত্রাণের অভিযোগ করেছেন বানভাসীরা। এদিকে, বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক নদী ভাঙনে বাড়ি-ঘর হারিয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানির কমে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, গাইবান্ধা ও রংপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবেব ন্যা কবলিত এলাকায় অপ্রতুল ত্রাণের অভিযোগ করেছেন বানভাসীরা।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। তবে মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রধান নদ-নদী'র পানি কমতে থাকায় দেশের ১৩ জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জামালপুর:
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলেও জেলার সাতটি উপজেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তলিয়ে রয়েছে সাত হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির ফসল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ৩৮০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৯ লাখ টাকা ও ৫ হাজার ব্যাগ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের চৌহালি রক্ষাবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।
শেরপুর
শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি না বাড়লেও সদর উপজেলার কামারের চর ও চরপক্ষিমারি ইউনিয়ন এলাকার পূর্ব পাশের ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্যার থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে জেলার হাওরের লোকজন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।
রংপুর
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে তীব্র বেগে স্রোত প্রবাহিত হয়ে রংপুরে নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। পীরগাছা উপজেলার ২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে ফসলী জমি ও ১০ হাজার বাড়িঘর, যে কোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরো ৫ হাজার বাড়ি-ঘর।
সিলেট:
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে প্রধান দুইটি নদী সুরমা-কুশিয়ারায় সীমান্তের কাছাকাছি ৩টি পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মাদারীপুর:
এদিকে, মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা বেষ্টিত চরাঞ্চল ও আড়িয়াল খাঁ তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বিস্তৃর্ণ ফসলের জমি ও শতাধিক ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে, মুন্সীগঞ্জে বন্যার পানি বাড়ায় পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে জেলার টঙ্গিবাড়ি ও লৌহজঙের দুইশোরও বেশী বসতবাড়ি, ফসলি জমি, খেলার মাঠ, স্কুল, মসজিদ ও দোকানপাট। এতে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। ভাঙন-আতঙ্কে রয়েছেন আরো অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
বন্যায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়েছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার গ্রামগুলোতে। গত ৭ দিনের টানা ভাঙনে নদী পাড়ের এই দুই উপজেলার শত শত পরিবার বসতবাড়ি ও সহায় সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা নদী তীরবর্তী এলাকায় ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
ভাঙনের বিস্তৃতি আরো বাড়তে পারে, এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এখানের অসহায় মানুষ। চোখের সামনেই পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে পূর্ব-পুরুষের ভিটেমাটি। এ অবস্থায় নদী ভাঙন ঠেকাতে এলাকায় বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা।
ভাঙন কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের জন্য নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা।