নদনদীর পানি কমতে থাকায় দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। আর উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত বেশিরভাগ এলাকা থেকেই পানি নেমে গেছে।
বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫ সেন্টিমিটার ধস হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণে এনেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি কমতে থাকা এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র অভাব। বাড়ছে পানিবাহিত রোগ।
গত কয়েকদিন ধরে কমছে বন্যার পানি। উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে দুর্ভোগ শেষ হয়নি বানভাসী মানুষের।
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাড়িঘর থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।
এদিকে, বুধবার রাতে শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫ সেন্টিমিটার ধস হলেও বস্তা ফেলে এবং কংক্রিট নিক্ষেপ করে ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণে এনেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এছাড়া দেশের মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে। জামালপুরে যমুনা নদীর পানি কমে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনো ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ , দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকশীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বেশ কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও পানিয় সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। বন্যায় জেলার ৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে শেরপুরেও। সদর উপজেলার কামারের চর ও চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের প্লাবিত ১৫ গ্রামের পানি সরে গেছে। পানি কমতে থাকায় এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সম্প্রতি নির্মিত নতুন বেড়ি বাঁধ সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে, মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর পানি কমে শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। আর শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিযে বইছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ প্রায় একমাস ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না তাদের। সিলেটেও কমেছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি। কানাইঘাট ও অমলসীদ পয়েন্টে বিপদসীমার কিছুটা উপর দিয়ে বইছে এসব নদী।