দেশের বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীর পানি কমলেও ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে আটটি গ্রাম।
বন্যা দুর্গত এলাকায় এখনো খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল বলে বন্যার্তদের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে এখনো পানিবন্দি হয়ে আছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। অনেকদিন পানিবন্দি থাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এছাড়ি পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর উত্তর দৌলতপুরে বাঁধ ভেঙে আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে ফুলগাজী সদরের মূল সড়ক।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারি বর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি থেকে নেমে আসা ঢলে গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে মুহুরী নদীর পানি প্রবাহিত হয়। এর ফলে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের অংশে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় আটটি গ্রাম।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি কমলেও এখনো পানিবন্দি পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ। বন্যায় সাত উপজেলায় সাত হাজার ৪০৪ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলার তিনশো কিলোমিটারেরও বেশি কাঁচাপাকা রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নদী ভাঙন। চরপক্ষীমারী, কেজাইকাটা ও চন্দ্রকোণা এলাকায় হুমকির মুখে পড়েছে আবাদি জমি, বাড়িঘর, বিদ্যালয়সহ অনেক স্থাপনা।
মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও কমে নি হাকালুকি ও কাউয়াদীঘির হাওরের পানি। বাড়িঘর-রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না বানভাসী মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি থাকায় বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। সিলেটেও কমেছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি।