টানা বর্ষণে ফেনীর মুহুরী, কহুরা ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ১১টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ১১টি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভেসে গেছে রাস্তা-ঘাট ও পুকুরের মাছ।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদীর পানি। মৌলভীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও হাকালুকি ও কাউয়াদিঘীর পানি কমেনি। দুর্গত এলাকায় দীর্ঘদিন পানি বন্দি থাকায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা ও পদ্মাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কোনো কোনো জেলায় নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরে যমুনা নদীর পানি কমে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদীর পানি। বন্যায় জেলার ৭ হাজার ৪০৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি নেমে যাওয়া বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে, টানা বর্ষণে ফেনীর মুহুরী, কহুরা ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ১১টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ১১টি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ভেসে গেছে হাজারের বেশি পুকুরের মাছ।
যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও হাকালুকি ও কাউয়াদিঘীর পানি কমেনি। এখনো বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। জেলার বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে ২৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯৮ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার ৭ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযো বানভাসি মানুষের।
এদিকে, বন্যা দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, গো খাদ্যের সংকট ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গাইবান্ধায় বন্যার পানি নামার পর পরই আশ্রয় কেন্দ্র, রেল লাইনের পাশে ও সড়কে ঝুপড়ি ঘর তুলে থাকা বন্যার্তরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। পানি নেমে গেলেও কাদায় সয়লাব বাড়ি ঘরের মেঝে-আঙ্গিনা। কোথাও আবার পথে-ঘাটে এখনো পানি, তবু নিজ ঘর বলে কথা। তাই অসহায় এই মানুষগুলো ছুটছেন নিজ বাসস্থানে।
বন্যার পানির তোড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি। যারা টিন, কাঠ, বাঁশ খুলে নিয়ে অন্য জায়গায় গিয়েছিলেন তারা অর্থের অভাবে সেগুলো পুনস্থাপন করতে পারছেন না। ফুলছড়ির কোঁচখালি বা হারোডাঙ্গা চর গ্রামের মানুষ তাদের ভাঙ্গা সংসার এখন কিভাবে জোড়া লাগবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা।
এবেলা খেলে ওবেলা খাবার জুটবে কিনা তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। এরমধ্যে, বিশুদ্ধ পানি, টয়লেট সমস্যা তো রয়েছেই। আপাতত ভাবনা ছাড়া তাদের আর কোনোই কাজ নেই।
বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সব। ভাঙ্গনের তীব্রতায় ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়ার হারোডাঙ্গা এখন অন্য ইউনিয়নের ভেতরে। দুর্গতদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মেম্বাররা কেউই তাদের খোঁজখবর নেন না।
গাইবান্ধার গৌতম চন্দ্র পাল জেলা প্রশাসক বলেন, তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী দেয়া অব্যাহত আছে। বন্যায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হবে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২২ ইউনিয়নের ১৬৫টি চরের মধ্যে অন্তত ৭০টি চর প্রায় প্রতিবন্যাতেই প্লাবিত হয়।দূর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে থাকে এখানকার হাজার হাজার মানুষ।