সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দুই দশক আগে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন শুরু হয়। ভূমিদস্যুদের তৎপরতায় এখনো সেখানে পাহাড়, টিলা ও জঙ্গল উজাড় করে বসতি স্থাপন চলছে। ফলে বর্ষা এলেই পাহাড় ধসে হচ্ছে জানমালের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি আর ভূমিদস্যু উচ্ছেদে প্রশাসন যেন নিতান্তই অসহায়।
চট্টগ্রাম নগরীর অদূরে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জঙ্গলের পাহাড়ি পথ বেশ বন্ধুর। পথে পথে দেখা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন নামে সেখানের জায়গাজমি বেদখল হয়ে আছে। চোখে পড়ে নির্মাণাধীন ভবন এবং বসতি গড়ে তুলতে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কাটা চলছে।
আর এর ফলে সামান্য বৃষ্টিপাতেই ধসে পড়ছে পাহাড়। প্রতিবছরই ঘটছে ব্যাপক প্রাণহানি। সবশেষ গত শুক্রবার ভোরেই তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচ জন মারা গেছেন।
প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ক্যামেরার সামনে কেউ কথা বলতে রাজী নন। তবে স্থানীয়রা বলেন, সরকারি পাহাড় ও টিলায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার স্লিপ দিয়ে বসতি গড়ে তোলার অনুমতি দেয় চক্রটি।
জনৈক আলী আক্কাস এ দখলদার চক্রের নেতৃত্বে থাকলেও কয়েকবার ক্ষমতার পালাবদলের পর জনৈক ইয়াসিন এখন এর নেতৃত্ব রয়েছে আর প্রশাসন এদের সম্পর্কে জানলেও যেন অসহায়।
এদিকে, বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ৫০টিরও বেশি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়গুলো কেটে এর ধাপে ঘরবাড়ি গড়ে তোলা হয়। ফলে বর্ষাকালে এসব পাহাড় ধসে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, বর্ষা আসলেই শুধু লোক দেখানো উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। এছাড়া, প্রশাসনের আর কোনো নজরদারি নেই।
এ অবস্থায় এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন, বন্ধ করবেন জানমালের বিপুল ক্ষতি, এমনটিই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।