মুক্তির দুবছর শেষ করে তিনে পা রাখলো দেশের ১১১টি ছিটমহল। এ উপলক্ষে ছিটমহলগুলোতে চলছে আনন্দ মিছিল। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে তারা।
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এসব এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ঘরে ঘরে জ্বলছে বিজলি বাতি, চলছে এলাকার রাস্তা পাকা করার কাজ। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ, প্রতিটি পরিবার ব্যবহার করছে স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ নলকূপ। তবে, জমি সংক্রান্ত জটিলতায় এখনো চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এখানকার লোকজন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভিতর কুটি ও বঁশপচাই সাবেক দুটি ছিটমহলের প্রবেশ মুখে এবং হাতীবান্ধা উপজেলা উত্তর গোতামারীতে ছিল ছোটবড় খানাখন্দ। বর্ষায় খাল পারাপার হতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো স্থানীয়দের। সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। কমবেশি এমন চিত্র ছিল দেশের সবগুলো ছিটমহলে। দু বছর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তে সেই খালের উপর আজ সেতু হয়েছে। পাকা হয়েছে রাস্তা। আলো জ্বলছে ছিটমহলের প্রতিটি ঘরে।
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ১১১টি ছিটের ৪১ হাজার ৪৪৯ জন মানুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়। এরপর থেকে ছিটবাসীর জীবন-মান উন্নয়নে রাস্তা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়।
লালমটিরহাটের সাবেক ৫৯টি ছিটমহরে জমির পরিমাণ ৩ হাজার দুইশ ৩৮ একর। এসব জমির মূল নকশা ও পাকা খতিয়ান স্থানীয়দের হাতে শিগগিরই পৌঁছাবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম।
এদিকে, কুড়িগ্রামেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে ছিটমহলের দুই বছর পূর্তি। কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়ায় ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখেন সাবেক ছিটবাসীরা।
প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালন করেছেন নীলফামারীর বিলুপ্ত চারটি ছিটমহলের মানুষ।
সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনন্দমিছিলের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা।