দেশের বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ ২৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বন্যা দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রাজধানীর চারদিকে ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ১৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বগুড়া :
বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে— যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। ঝুঁকির মুখে বাঁধের বেশ কিছু পয়েন্ট পরায় সেগুলোতে বালির বস্তা দিয়ে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে, প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
জয়পুরহাট :
জয়পুরহাটের ৫১ টি গ্রামে পানি ঢুকে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও শাক সবজি।
নীলফামারী :
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বন্যার পানিপ্রবাহ কিছুটা কমলেও এখনো পৌরশহর ও পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই কিশোরসহ ৩ জন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮০ হাজার টাকা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। চার লাখেরও বেশি বন্যাকবলিত মানুষের দুদর্শার শেষ নেই। ঘরবাড়ি ছেড়ে বানভাসিরা আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। বিজিবির পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর পানি বেড়ে বাঁধের দুটি পয়েন্ট ধসে গেছে।
ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নতুন করে কোন এলাকা প্লাবিত হয়নি। বন্যাদুর্গত এলাকার ৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করছেন পানিবন্দি মানুষ। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এছাড়াও সুরমা নদীর সবকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নদীর দুই তীরের ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ।
মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাওয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রায় মাস ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না হাওরবাসির।