দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে— পানি কমতে শুরু করায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা।
বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে পানিবন্দি লাখো মানুষ। ত্রাণ না পেয়ে চরম কষ্টে দিন যাপন করছেন তারা। মধ্যাঞ্চলে ঢাকার চারপাশে ৫ টি নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার হয়ে ১২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কমতে থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।
রাজবাড়ি :
রাজবাড়িতে পদ্মা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়ালন্দ ও সদর উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা এখন বন্যাকবলিত। ঘরের মধ্যে উঁচু মাচা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধ ও উঁচু স্থানে। রেল লাইন তলিয়ে যাওয়ায় গোয়ালন্দ থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ফরিদপুর :
ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি আরো বেড়েছে। পানিবন্দি ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ।
শেরপুর :
শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কাঁচা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সদর উপজেলার চর পক্ষীমারী ইউনিয়নের পোড়ার দোকান এলাকায় ডাইভারসান তলিয়ে যাওয়ায় শেরপুর-জামালপুর হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
নওগাঁ :
নওগাঁর ২০ টি জায়গায় বাঁধ ভেঙ্গে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি তিন লাখেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বেশিরভাগ এলাকায় পৌছাঁয় নি ত্রাণ সহায়তা।
জামালপুর :
জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি নেই। উজানে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়ক বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে সরিষাবাড়িতে।
কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামে বন্যার পানি আরো কমেছে। তবে চরাঞ্চলের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি এখনো তলিয়ে থাকায় বাড়ি ফিরতে পারেনি অনেক মানুষ। নৌকায় কিংবা উঁচু স্থানে দিন যাপন করছেন তারা। সাতদিন ধরে পানিবন্দি থাকায় খাদ্য সংকট তীব্র হয়েছে।
এছাড়াও মৌলভীবাজারে পরিস্থিতির কোন উন্নতি নেই। কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় মাসের পর মাস পানিবন্দি হয়ে আছে মানুষ।