একমাত্র সন্তান মামুনকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। বিচারহীনতায় দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও তারা জানতে পারেনি কেন, কী কারণে আজও বিচারকাজ শেষ হয়নি। ভয়াবহ এ হত্যার বিচার চায় এলাকাবাসী ও মামুনের স্বজনেরা।
মামুনের মা মোরশেদা বেগম একবুক জ্বালা নিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছেন। চাপা কষ্টে তার চোখের জল যেন শুকিয়ে গেছে।
বাবা মোতালেব মৃধা স্ব-মিলের শ্রমিক হতদরিদ্র ঘরের আলোর প্রদীপ নিভে যাওয়ায় পুরো পরিবার হতাশার সাগরে ভাসছে।
মামুন আমার একমাত্র সন্তান ছিলো তাকে নিয়ে আমার অনেক আশা ভরসা ছিল— এখনো আমার সন্তান হত্যার কোনো বিচার পাইনি বলেন মামুনের বাবা।
কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে গেছে মা-বাবার। শেষ আশা খুনিদের বিচার দেখে যেতে চান মামুনের পিতা-মাতা।
নিহত মামুনের বোন তুলি আক্তার বলেন, এখনো আমার ভাই হত্যার কোনো বিচার হয়নি, তাই একমাত্র ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
এলাকাবাসীসহ তার স্বজনদের দাবি এ হত্যাকাণ্ডেরর বিচার খুব দ্রুত কর্যকর করা হোক।
মামুন মৃধার পরিবারকে অর্থনৈতিক সাহায্য করাসহ তার নামে একটি সড়ক নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রধামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দশমিনা সদর ইউনিয়ান পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবল মাহামুদ লিটন।
উল্লেখ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন।
ওই হামলায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা গ্রামের মামুন মৃধা রয়েছেন। কবি নজরুল কলেজের দ্বাদশ বর্ষের ছাত্র মামুন বাবার সাথে ঢাকাতেই থাকতো। মামুন ২০০৩ সনের এসএসসি পরীক্ষায় দশমিনার বিবি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে ভর্তি হয় ঢাকার কাজী নজরুল ইসলাম কলেজে। ওইদিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার খবর পেয়ে মোতালেব মৃধা বাসায় ফিরে ছেলেকে না পেয়ে আত্মীয় স্বজনদের বাসায় খোঁজ নেয়। রাত ১০টার দিকে সে হাসপাতালের মর্গে মামুনের মরদেহ উদ্ধার করেন। একদিন পরে সোমবার ২৩ আগস্ট মামুনের মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়ি দশমিনায়।