ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও যমুনার পানি দ্রুত কমতে থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর থেকে পানি না কমায় এখনো ঘরে ফিরতে পারছেন না বানভাসিরা। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। খাবারের পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।
বন্যায় টাঙ্গাইলে রেলপথের একটি সেতুর সংযোগসড়ক ধসে পড়ায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতিশীল রয়েছে।
চলমান বন্যায় টাঙ্গাইলে রেলপথের একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
রোববার সকালে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন।
তিনি বলেন, প্রবল বন্যার পানির স্রোতে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভায় পৌলি রেল সেতুর দক্ষিণ অংশের এপ্রোচের প্রায় ২০ ফুটের মতো জায়গায় মাটি সরে গেছে।
ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও যমুনার পানি দ্রুত কমতে থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর থেকে পানি না কমায় এখনো ঘরে ফিরতে পারছেন না বানভাসিরা। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। খাবারের পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।
আত্রাই, পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি কোথাও অপরিবর্তীত আবার কোথাও অবনতি হয়েছে। আত্রাইয়ের পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে নাটোরে।
জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে, এখনো বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে ভাসছে ৭ উপজেলার ৬ লক্ষাধিক মানুষ। এ পর্যন্ত শিশুসহ ১১ জনের মৃত্য হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতে। ফলে, জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
অপরিবর্তিত রয়েছে শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতি। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মাদারীপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পদ্মার তীব্র স্রোতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
রাজবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। সদর, কালুখালী ও পাংশা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের।
মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি বেড়ে প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী শ্রীনগর, লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ১০ হাজার পরিবার। টঙ্গিবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নে নদী ভাঙনে ৮টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
মৌলভীবাজারে মনু নদী ও ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কুশিয়ারার পানি সিলেটের শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ও শেরপুর ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।