মৌলভীবাজার ও রাজবাড়ীতে নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যার পানি প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসিরা। বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ।
নতুন করে প্লাবিত হয়ে আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামে বাড়িঘরে পানি উঠছে—রয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘির হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিবন্দি এসব এলাকার লাখ লাখ মানুষের চরম ভোগান্তি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বন্যার পানিতে অন্তত ৫০টি বিদ্যালয়ে তলিয়ে আছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াইশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন।
হাকালুকি হাওরাঞ্চলে বড়লেখা,জুড়ি, কুলাউড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নে জি আর চাল বিতরণে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করেছেন বানভাসিরা।
মৌলভীবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় হাওরাঞ্চলে পানি বেড়েছে। তার উপরে বেড়েছে কুশিয়ারার পানি। যে কারণে হাওর থেকে কুশিয়ারায় পানি বের হতে পারছে না। বৃষ্টি হলেই পানি বেড়ে যাচ্ছে। কুশিয়ারার পানি না কমলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
এদিকে, রাজবাড়ীতে বন্যার পানি কমে যাওয়ায় জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ইতিমধ্যেই বন্যার্তরা তাদের নিজ গৃহে ফিরেছেন। তবে নতুন করে শুরু হয়েছে দুর্দশা। বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও খাবার পানির সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছে বানভাসিরা। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।
এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নগদ টাকা ও ৪৬২.৫১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দিয়েছে।