মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফে অনুপ্রবেশকারী ১৪১ রোহিঙ্গাকে সোমবার ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে টেকনাফে অনুপ্রবেশকারী ১৪১ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহযোগিতা দিয়ে ভোরে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এদেশে অনুপ্রবেশরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ৮৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৫৯ জন 'রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী' বলে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে।
রাখাইনের মংডু, রাথিডং ও বুথিদাউংয়ে সেনা সমাবেশ নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরেই সেখানকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়।
বিদ্রোহ দমনের নামে সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। সর্বশেষ সহিংসতার পর নির্মূল অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়।
গত বৃহস্পতিবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে নতুনভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমান্বয়ে সহিংসতা বাড়ায় সেখান থেকে কমপক্ষে ৪ হাজার অমুসলিমকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে সীমান্তরক্ষীদের চৌকিতে হামলার পরেই রাখাইনের গ্রামে-গ্রামে অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে।
সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। গত কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি সরকারের। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।