মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহতের মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা থেকে আরো চার জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে এক দম্পতি রয়েছেন।
এদিকে, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ২৫৪ জন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজ-খবর নিতে উখিয়ার পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় আসছেন হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া, বর্ডার গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর হোয়াইক্যং পয়েন্ট থেকে পুলিশ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বিজিবি শনিবার গভীর রাতে মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে গত তিনদিনে ৫৪ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, শনিবার গভীর রাতে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী পয়েন্টে শূন্যরেখার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুইটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা গিয়ে উদ্ধার করে। সীমান্তের জলপাইতলীতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আবুল হোসেন বলেন, নিহত মো.জাফরুল্লাহ ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব জেলার মংডু থানার ঢেঁকিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সহায় সম্পদ ফেলে গত দুইদিন আগে ঘুমধুম সীমান্ত পেরিয়ে জাফরুল্লাহসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।
ফেলে আসা সহায়-সম্পদ আনতে শনিবার তারা ঘুমধুমের জলপাইতলী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার যান। তারা ঢেঁকিবুনিয়ায় পৌঁছার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা বাংলাদেশের দিকে রওনা দেন একপর্যায়ে ঘুমধুমের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
টেকনাফ থানার ওসি মো.মাইনুদ্দিন খান বলেন, এদিকে নাফ নদীর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা মরদেহগুলো দুই রোহিঙ্গা নারীর।
নিহতদের পরনে স্থানীয় বার্মিজ পোশাক ছিল বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাঞ্জরপাড়া ও উন ছিপ্রাং পয়েন্টে, রোদ-বৃষ্টি, কাদা-পানি কিছুই তোয়াক্কা করছেন না কেউ। এমনকি বিজিবির কড়া নজরদারিও শনিবার ঈদের দিনেও ছিল একই চিত্র। শুধুই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা করে যাচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা।
গত ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল শুরু হয়।
কক্সবাজার ও বান্দরবানে নাফ নদী পেরিয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের দিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে।
শরীরে গুলি ও পোড়া ক্ষত নিয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেলে ভর্তি আছেন বেশ কজন রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশে গত আট দিনে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী এসেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর শনিবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এসব শরণার্থীর মধ্যে প্রায় সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে এসব মানুষ পালিয়ে এসেছে বলে জানায় ইউএনএইচসিআর।