মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মধ্যে একরাতের ব্যবধানেই নতুন ১৩ হাজার রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।
এর আগে আট দিনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার পৌঁছেছে বলে জানায় জাতিসংঘ।
এদিকে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, গুলি আর বোমার জখম নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন পাঁচ রোহিঙ্গা।
মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা এ রোহিঙ্গারা রোববার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
তারা হলেন: মো. ইউনুস (২০), মো. আলম (২০), বশির উল্লাহ (৬৫) ও খালেদ হোসেন (২৫) গুলিবিদ্ধ; আর হোসাইন জোহা (২২)।
গত ১১ দিনে মোট ৪৬ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে একজন গত ২৬ আগস্ট এবং একজন ৩০ আগস্ট মারা যান।
গতকাল নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরো ছয় জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ২৫৪ জন সনাতন ধর্মাবলম্বীর দিন কাটছে উখিয়ার পশ্চিম হিন্দু পাড়ায়।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাঞ্জরপাড়া ও উন ছিপ্রাং পয়েন্টে রোদ-বৃষ্টি, কাদা-পানি কিছুই তোয়াক্কা করছেন না কেউ। শুধুই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা রোহিঙ্গা মুসলিমদের।
তাদের অভিযোগ, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের উপরেও গুলি করছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা।
এদিকে, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ২৫৪ জন সনাতন ধর্মাবলম্বীর খোঁজ নিতে উখিয়ার পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় রয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের নেতারা।
একরাতের ব্যবধানেই রোববার টেকনাফে নতুন কমপক্ষে ১৩ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। ফলে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার। স্থানীয় স্কুল মাদ্রাসা ছাড়াও বিভিন্ন খোলা জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে তারা আশ্রয় নিচ্ছেন। এভাবে শরণার্থী আসতে থাকলে শিগগিরই আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউএনএইচসিআর।
এ নিয়ে গত চার দিনে নাফ নদী থেকে ৬০ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর নতুন করে দমন অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রতিদিনই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছেন।