শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউই বাদ পড়ছেন না রাখাইন প্রদেশে যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখানেই গুলি করছে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
তাই ঘর-বাড়ি-স্বজন ফেলে যে যেদিকে পারছে সেদিকেই পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল চিকিৎসা নেয়া রোহিঙ্গারা এমনই তথ্য দিয়েছেন।
হালচাষ করে বেশ সুন্দরভাবেই চলছিলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জিয়াবুলের সংসার। কিন্তু সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হন জিয়াবুলসহ তার চার ভাই। ঘটনাস্থলে তিন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আর জিয়াবুল বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এখন তার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
শুধু জিয়াবুল নয়, রাখাইনে এরকম লাখ লাখ রোহিঙ্গার ওপর নির্বিচারে গুলি ছুঁড়ছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
আর বলছে, এটা তোমাদের দেশ নয়, ঘর ছেড়ে পালাও— এমন আচরণে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলেন, গত কয়েকদিনের সহিংসতায় রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা মানুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
টেকনাফের নাফ নদীর তীরে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে আছে কয়েক হাজার মানুষ যাদের অধিকাংশই স্বজনহারা।
মিয়ানমারে আহত হয়ে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে অর্ধশত রোহিঙ্গা চিকিৎসা নিয়েছেন— তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।