আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্রোত অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ-সোমবার এদিকে, মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনে আহত হয়ে দুই যুবক চিকিৎসা নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া আগামীকাল- মঙ্গরবার রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর অব্যাহত দমনপীড়নের মধ্যে গত ২৪ আগস্ট একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। পুড়িয়ে দেয়া হয় শত শত ঘরবাড়ি। প্রাণভয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
তারা কক্সবাজারে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার আর পরিচয়পত্র দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার বলে গতকাল জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য জেলার বালুখালী ও কুতুপালং-এ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।
এদিকে, ঘুমধুম সীমান্তের কাছাকাছি সীমান্তে মিয়ানমারের সৈন্যরা রোহিঙ্গাদের চলাচলের ৯টি স্থানে মাইন পুঁতে রেখেছে বলে জানিয়েছেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
মাইনে আহত দুই যুবকসহ আরও পাঁচ রোহিঙ্গা চিকিৎসা নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
টেকনাফের সীমান্তবর্তী কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোববার রাতে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
এনিয়ে গত ১৮ দিনে মোট ৯১ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসেন।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে কাল কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে সোমবার গেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।