মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা থেকে বাঁচতে স্থল, নদী ও সমুদ্রপথে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে আসা প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে কাজ করছে ১২টি পেট্রোল টিম।
রোহিঙ্গারা শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়া রোধে নয়টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাও এগিয়ে এসেছে রোহিঙ্গাদের সহায়তায়। বিশেষ ত্রাণ শাখাও চালু করেছে প্রশাসন।
এদিকে, টেকনাফ উপকূল থেকে আজ-শুক্রবার আরো এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্যে আটশো মেট্রিক টন খাদ্যদ্রব্য আর ৩২ লাখ নগদ টাকার সহায়তা পাওয়া গেছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, সুপেয় পানিসহ সব ধরনের সহায়তা দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার।
সরকারের ৫০০ মেট্রিক টন চাল আর ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন দেশ ও দেশি-বিদেশি সংস্থার পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী আর অর্থে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভারত, মরক্কো ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা ত্রাণও কক্সবাজার পৌঁছেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, কুতুপালংয়ের ১৪টি পয়েন্টে বিতরণ করা হচ্ছে এ খাবার।
তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের ত্রাণ জেলা ত্রাণ সেলে জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের।
আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ৩৬০ জন পুলিশ সদস্য—তারা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য পুরো এলাকায় রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি বলে জানান কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন।
এদিকে, মিয়ানমার বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সাগর উপকূল থেকে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে নাফ নদী ও সাগরে নৌকাডুবিতে ১১১ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।