মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখন অবস্থান করছেন টেকনাফ শহর ও তার পাশের এলাকা উখিয়াতে।
সমূদ্রপাড়ে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত নির্মিত মেরিন ড্রাইভের পাশে ঝাউবনের ছায়ায় ত্রিপল ও প্লাস্টিক শিট দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। এই বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
মিয়ানামারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা নাফ নদী পেরিয়ে এখনো দলে দলে বাংলাদেশে আসছেন। শাহপরীর দ্বীপ থেকে ট্রাকে করে টেকনাফ শহরে এসে পৌঁছেছেন রোহিঙ্গারা।
প্রতিদিন ভোর থেকে হেঁটে অথবা ট্রাক, পিকআপ, জিপ, অটোরিকশা, ইজিবাইকে করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা টেকনাফে আসছেন।
প্রায় আটশ'র মতো জেলে নৌকা এখন মাছ ধরার বদলে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আনা-নেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
এই জনস্রোত সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে। টেকনাফে তিনটি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোকসংখ্যা। আবার অনেকে তাদের পতিত ভিটায় বাঁশ, ত্রিপল, প্লাস্টিক শিট দিয়ে লম্বা ঘর করে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিচ্ছেন। আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরেও এসব ঘরে লাখো রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সারাদেশে থেকে আসছে ত্রাণ। প্রতিদিনই শত শত ট্রাকে এসব ত্রাণ নিয়ে আসছেন অসংখ্য মানুষ।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতায় ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা।
জানাগেছে, মিয়ানমার রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর দমপ-পীড়নের শিকার হয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
তাদের জন্য আশ্রয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও পানীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
এছাড়া, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনেক রোহিঙ্গা।
গত মাসের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নেমেছে।