টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড় দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর মাযেরপাড়া সাগরসৈকতে আজও _শনিবার ভেসে এসেছে আরও এক রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ।
গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে ২৩টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে শিশু ৫৭, নারী ৩২, পুরুষ রয়েছে ২৩ জন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনুদ্দিন খান বলেন, সকালে সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপির সদস্য নুরু আমিনের নেতৃত্বে সৈকত এলাকা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি মাইনুদ্দিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ও বেলা ১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতে সাগরে দুটি নৌকাডুবি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, দুই নৌকাডুবির যেকোনো একটিতে ওই নারীর মৃত্যু হতে পারে। পোশাক দেখে ওই রোহিঙ্গা নারীকে চিহ্নিত করা গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নৌকায় করে মিয়ানমার থেকে প্রচুর রোহিঙ্গা ঢুকছে। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজন অসাধু মাঝি টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যারা নদী ও সাগর পার হয়ে ঢুকে পড়েছে, তাদের একত্র করে স্থায়ীভাবে টেকনাফের হোয়াইকং পুটিবুনিয়া অস্থায়ী ক্যাম্পে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা।
জানাগেছে, মিয়ানমার রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর দমপ-পীড়নের শিকার হয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
তাদের জন্য আশ্রয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও পানীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
এছাড়া, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনেক রোহিঙ্গা।
গত মাসের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নেমেছে।