মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চমেকে ভর্তি হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী মোসাম্মৎ রাজিয়া। তার স্বামীর নাম ফয়সালতবে, মিয়ানমার বাহিনী সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখায় ও সেনা-টহল জোরদার করায় শরণার্থীদের ঢল কিছুটা কমেছে।
মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখায় এবং টহল জোরদার করায় নির্যাতিত অনেক রোহিঙ্গাই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে শরণার্থীরা।
এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশের দেহেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্থায়ী ক্যাম্পে পানি উঠে গেছে।
এ অবস্থায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পানি- কাঁদায় ত্রাণবাহী যানবাহন আটকে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ বিরতরণ কার্যক্রমও।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চমেকে ভর্তি হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী মোসাম্মৎ রাজিয়া। তার স্বামীর নাম ফয়সাল।
এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মোসাম্মৎ রাজিয়া জ্বর এবং অন্য শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়াও পালিয়ে আসা এক নারীসহ চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজন জন্ডিসে এবং একজন জ্বরে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন মো. হোসেন (৫০)। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুয়াথা গ্রামের মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে। একই সময়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা নজির হোসেন (৫০) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার থাম বাজারের বাসিন্দা।
ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নজির হোসেন জন্ডিসে আক্রান্ত তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে।
মাথায় আঘাত নিয়ে চমেকে ভর্তি হয়েছেন মো. জকির (২৮)। তিনি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গুলি-বোমা হামলা, বাড়িতে আগুন দেয়া এবং সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা চমেক হাসপাতালে আসতে শুরু করে।
শুরুতে গুলিবিদ্ধ, বোমায় দগ্ধ এবং হাত-পা ভাঙ্গা আহত মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। পরে মাইনে দগ্ধ দুজনও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।