রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী এ কাজে অংশ নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকাসহ শরণার্থী ক্যাম্পের আশপাশে টহল জোরদার করা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শরণার্থী শিশু ও অন্তসত্ত্বা নারীরা।
এদিকে, কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার মিয়ানমারের দুই আলোকচিত্র সাংবাদিককে জামিন দিয়েছে কক্সবাজারের আদালত।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে প্রতিদিন ১২৯ ট্রাক খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আর প্রতিদিন ত্রাণ সুবিধা পাচ্ছেন এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় শরণার্থীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে দুই হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি। এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে ত্রাণ দিতে গিয়ে দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা।
এ অবস্থায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সুষ্ঠু করতে শনিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকাসহ শরণার্থী ক্যাম্পের আশপাশে টহল জোরদার করা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়ছে নানা রোগে আক্রান্তর সংখ্যা। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের হুমকি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ত্রাণ সংস্থা এমএসএফও।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আবদুস সালাম জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে আসা শিশুরা জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগে ভুগছে। এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার শিশুকে হামের ও ২৫ হাজার শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হয়েছে।
অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার নামের একটি বেসরকারি সংস্থার হিসেবে, আশ্রয় নেয়া ৪ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গার অর্ধেকই শিশু। এদের মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার শিশু অপুষ্টিতে, আর প্রায় ৭ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। এছাড়া ১৮ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারীও অপুষ্টির শিকার। ত্রাণ হিসেবে প্রতিদিন দুই লাখ ৫৭ হাজার ৬২ জনকে খিচুড়ি ও হাই এনার্জি বিস্কুট দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজার থেকে ১০ দিন আগে গ্রেপ্তার মিয়ানমারের দুই আলোকচিত্রী সাংবাদিক মিনজাইয়ার উ ও হকুন লাটকে জামিন দিয়েছে আদালত।
শনিবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার দেব তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত তলব করলে হাজিরের শর্তে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় গোপন রেখে পর্যটক হিসেবে তারা উখিয়ায় তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তারা জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক "জিও" সাময়িকীতে কাজ করেন।