মিয়ানমারের রাখাইনে এখনো সেনা অভিযান চলছে— আর তাই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি স্বচোখে দেখতে ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকুক এবং ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংস্থাটির মানবিক সহায়তা বিভাগের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকুক।
রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এন্থনি লেক জানান, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ৬০ শতাংশই শিশু। এসব শিশু রাখাইনে ভয়াবহ নৃশংসতা দেখেছে যা খুবই অমানবিক।
সকালে কক্সবাজার পৌঁছান তারা।
তিন দিনের এ সফরে জাতিসংঘের এ দুই কর্মকর্তা গতকাল ঢাকায় আসেন তারা।
ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে তাদের সফরের বিষয়টি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে তারা এ সফর করছেন।
তিন দিনের এই সফরে দুই কর্মকর্তা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।
এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতিশ্রুতি ১৮ লাখ সুইস ফ্রাঁরের (প্রায় ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকা) সঙ্গে আরো তহবিল জোগাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
এর মধ্যে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা ও তাত্ক্ষণিক চাহিদা মেটাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ৮ লাখ সুইস ফ্রাঁর সহায়তা কক্সবাজারে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওদের মাধ্যমে দিতে সুইজারল্যান্ড সরকার পথ খুঁজছে। অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহে সুইজারল্যান্ড সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের রাখাইনে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরেজমিনে দেখতে সুইস সরকারের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশনের (এসডিসি) উপ-মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত ম্যানুয়েল বেস্লারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার সফরে রয়েছেন।
রোববার থেকে শুরু এই সফরে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেনস্টাইনও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
পালংখালিতে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বেস্লার বলেন, বর্তমান মানবিক সংকটে সুইজারল্যান্ড গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি যে সমস্যাগুলো এখানে প্রত্যক্ষকরছি তা অভূতপূর্ব। এ সমস্যা সমাধানে দরকার সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা। স্থানীয় জনগণসহ সকল ভুক্তভোগীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
সুইজারল্যান্ডের জনগণের সহায়তায় গড়ে উঠা সুইস সলিডারিটি ফাউন্ডেশন উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য ইতোমধ্যে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
আশা করা যাচ্ছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সমর্থনে সাধারণ সুইস জনগণের সহায়তায় কয়েক মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ সংগ্রহিত হবে।
দেশে সাম্প্রতিক বন্যার পর সুইজারল্যান্ড সরকার বাংলাদেশে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় এর মধ্যে দুই লাখ সুইস ফ্রাঁ করেছে।
গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।