১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সব রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিয়ে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউজে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন তিনি।
নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত সব রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে রাখা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, উখিয়ায় প্রথমে দুই একর জমি বরাদ্দ দেয়া হলেও পরবর্তীতে এটি বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার একর করা হবে এবং সেখানেই সব রোহিঙ্গাকে রাখা হবে।
এদিকে, মিয়ানমার সেনাদের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পাঁচ বছরের ওপরের শিশুদেরও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের তিনটি কেন্দ্রে শিশুদের নিবন্ধন শুরু হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চার দিনে পাঁচ হাজার ৯০০ রোহিঙ্গা শিশুর নিবন্ধন করা হয়। নিবন্ধনের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুদের একটি পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে।
এ পরিচয়পত্রের ওপরের অংশে লেখা রয়েছে 'মিয়ানমার ন্যাশনাল'স রেজিস্ট্রেশন কার্ড'। এর নিচে কার্ডের নম্বর, শিশুর নাম, ছবি, দেশ, জন্মস্থান, বয়স, লিঙ্গ, বাবা ও মায়ের নাম রয়েছে।
এছাড়া, পরিচয়পত্রের পেছনে মিয়ানমারে থাকার সময় শিশুর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশে প্রবেশের তারিখ ও পরিচয়পত্র হস্তান্তরের দিন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর এতে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।