কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় রোহিঙ্গাবাহী আরও একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এর মধ্যে চার শিশু ও ছয় নারী রয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম শরীফ বলেন, সোমবার সকাল ৮টায় সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া বেড়িবাধঁ ভাঙার কাছাকাছি সাগর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নৌকা করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা শাহপরীর দ্বীপে কাছাকাছি পৌঁছলে স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে খবর পেয়ে সকাল ৮ টার দিকে কোস্টগার্ডের একটি দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০ জনের মৃতদেহ ও ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
বেঁচে যাওয়া নুর নাহার বলেন, মিয়ানমার সেনারা এখনও রোহিঙ্গাদের নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তাই প্রাণে বাঁচতে অন্যদের সাথে পাঁচ সন্তান নিয়ে নৌকা করে রোববার রাতে মংডু গুদাম পাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে সোমবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপে পৌছলে ঢেউয়ের স্রোতে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকায় প্রায় ৬৫ জনের মত রোহিঙ্গা ছিল। এদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু ছিল। আমার সন্তানদের এখনও সন্ধান পাইনি।
তিনি জানান, তার স্বামীকে ২০ দিন আগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেতে একটি নৌকা ৬৫ জন রোহিঙ্গা নাফনদী পাড়ি দিয়ে পশ্চিম উপকূলের সাগর হয়ে শাহপরীর দ্বীপের দিয়ে ঢোকার সময় নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাতে বেশির ভাগ শিশু ও নারী ছিল বলে জানিয়েছে প্রাণে বেচেঁ যাওয়া লোকজন। এ নৌকাতে থাকা ৩৬ যাত্রী নিখোজঁ রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার শাহপরীর দ্বীপ গুলারচরে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ৩৪ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৮টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।