রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে বিশ্বের সবচেয়ে বর্বরতম ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির বোর্ড সদস্য এবং জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর পরামর্শক রানী রানিয়া।
সেইসঙ্গে বিশ্ববাসিকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সকালে ১১টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির বোর্ড সদস্য রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ'র নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তারা। সেখানে বেলা ১২ টায় ইউএনএইচসিআর পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রানী রানিয়া। পরে রোহিঙ্গা শিশুদের স্কুল পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন তিনি।
পরে সংবাদ সম্মেলনে রানী রানিয়া কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের ভুয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, শুধু মানবিক কারণে নয়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিশ্ববাসিকে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকতে হবে।
রানি বলেন, এখানে ৯৫ শতাংশ রোহিঙ্গা মৌলিক চাহিদার সংকটে রয়েছে—মিয়ানমারে যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চলছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন।
পরিদর্শনকালে জর্ডানের রানীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং জর্ডান দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা।
ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করতেই রানী রানিয়ার চার ঘণ্টার এই সফর।
জর্ডানের রানী ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির বোর্ড সদস্য এবং একইসঙ্গে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর পরামর্শক।
জর্ডানের রানীর কক্সবাজার সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।