আজ-শুক্রবার ২৪ নভেম্বর। আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর। ওইদিন অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান শতাধিক শ্রমিক। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো শ্রমিক। সেই ভয়াল স্মৃতি পেছনে ফেলে অনেক আহত শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করেও নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। তাদের দাবি, সরকার যেন তাদের পুনর্বাসন করে।
পাঁচ বছর আগে এ দিনে আশুলিয়ার তাজরীনে আগুন থেকে বেঁচে ফিরলেও মুন্সিগঞ্জের শ্রমিক দম্পতি রবিন-ফাতেমা হারিয়ে ফেলেন কর্মক্ষমতা। রবিন পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও কোমড়ের হাড় ভেঙে গেছে তার আর ফাতেমার মাথায় লোহার রড ঢুকে যায়। তবে, কালো স্মৃতির আঁধারে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার গর্ভে থাকা সন্তান নুরে জান্নাত যেন এই দম্পতির পরম পাওয়া।
এরই মধ্যে চলে গেছে পাঁচটি বছর।
সব ভুলে নতুন জীবনের সংগ্রামে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা। সেই ধারাবাহিকতায় তাজরীনের পাশের এলাকাতেই অল্প পুঁজিতে ফটোকপি ও কম্পিউটার কম্পোজের দোকান শুরু করেছেন।
কাজের মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়াতে চান এই দম্পতি— তবে সহজ শর্তে ঋণ ও সহযোগিতা পেলে নিজেদের আরও এগিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান খোরশেদ আলম রবিন ও ফাতেমা বেগম।
তাদের মতো অনেক আহত কর্মক্ষমতাহীন শ্রমিকরা এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা নতুন করে চাকরিতে যোগ দিয়ে নিজেদের সাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন।
তাজরীনের শ্রমিকদের ঘুড়ে দাঁড়াতে ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে কারখানা মালিক ও সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু।
এই ধরনের দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য সরকারের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি দেয়া দরকার বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের-জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগ অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান।
ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শুক্রবার। সেই ঘটনায় ১১১ জন পোশাকশ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যান। এক শর বেশি শ্রমিক আহত হন। তাদের অনেকেই এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অবশ্য এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গত এক বছরে দুজন সাক্ষী হাজির করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ মামলায় সাক্ষী ১০৪ জন। মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জজ ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়১১১ জনের প্রাণহানী ঘটে।