চট্টগ্রাম বন্দরে লস্করসহ বেশ কয়েকটি পদে নিয়োগ নিয়ে সম্প্রতি বন্দরনগরীসহ দেশে বিতর্ক-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের একাংশ এবং মহানগর আওয়ামী লীগ।
বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পরীক্ষা চট্টগ্রামের বাইরে হওয়া এবং নৌ-মন্ত্রীর জেলার মানুষকে বেশি চাকরি দেয়ার অভিযোগ এনে মানববন্ধনও হয়েছে।
এটা নিয়ে সংসদেও সমালোচনা হয়েছে তবে বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বচ্ছ বলে দাবি করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পাহারা দেয়া ও রশি বাঁধার কাজের লস্কর পদে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৫ জনের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ১৬ নভেম্বর—এরপরই সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়োগের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারাও এর কড়া সমালোচনা করেন।
তাদের অভিযোগ, নৌমন্ত্রীর এলাকা মাদারীপুরের লোকই নিয়োগ দেয়া হয়েছে বেশি।
চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
পছন্দের লোক নিয়োগ ছাড়াও নগর আওয়ামী লীগ নেতারা বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায় নেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে মাদারীপুরের ৬ থেকে ৭ জনকে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন নৌমন্ত্রী খোদ নিজে।
তার দাবি, ষড়যন্ত্রকারীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।
এদিকে, বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষা এতোদিন চট্টগ্রামেই নেয়া হতো— এবারই প্রথম উচ্চমান সহকারি, বহিঃসহকারি, স্টোরম্যানসহ বেশকিছু পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ঢাকায়।
পছন্দের লোক নিয়োগে পরিকল্পিতভাবেই এমনটা করা হয়েছে বলে মন্তব্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের।
তবে বন্দর চেয়ারম্যান বলছেন, অধিক সংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা সুশৃংখল ও সঠিকভাবে নিতেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।