বাংলাদেশে নতুন বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কমপক্ষে ৪৮ হাজার শিশু জন্ম নিবে— আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এ তথ্য জানিয়েছে।
এ হিসেব অনুসারে প্রতিদিন ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নেবে ১৩০ শিশু।
এসব নবজাতকের অধিকাংশেরই ডিপথেরিয়া, কলেরা, হামসহ নানা রোগ ও পুষ্টিহীনতার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে— ফলে অনেক শিশু ৫ বছরের আগেই মারা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব তথ্য জানায়।
গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এসব শরণার্থীর ৬০ ভাগই নারী ও শিশু।
স্থানীয় হিসাবে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের ৭০ হাজারই অন্তঃসত্ত্বা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোয় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা র্যা চেল কুমিংস বলেন, 'ক্যাম্পগুলোর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক।
এগুলো ডিপথেরিয়া, হাম, কলেরার মতো রোগের উৎসস্থল— আর এর জন্যই নবজাতকরা সেখানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, মোট কথা এটি কোনো শিশু জন্মানোর জন্য উপযুক্ত স্থান নয়।
একই বিষয়ে কক্সবাজার সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক প্রিতন কুমার চৌধুরী বলেন, এটি সত্যিই আমাদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি—এই সংকট কীভাবে মোকাবেলা করা যায় তা আমরা বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন, এরইমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় ৩৬ হাজার অনাথ শিশুর রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় ডিপথেরিয়া পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন।
গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোয় ২ হাজার ৫২৬টি ডিপথেরিয়া আক্রান্ত শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে— এ ছাড়া এই রোগে এখন পর্যন্ত ২৭টি শিশু মারা গেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।